মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম পাঁচলাইশে ব্যবসায়িক পরিবারের প্রতি বারবার হামলা।
আমিনুল হক শাহিন ঃ- চট্টগ্রাম ৩রা নভেম্বর ২০২৬ ইং
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় একটি ব্যবসায়িক পরিবারকে নিয়ে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে পরিবারটি আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছেন বলে জানান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় গত ১৯শে আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী আজাদ চৌধুরীকে হামজারবাগ এলাকায় একদল সন্ত্রাসী গুলি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও গত ১৩ই আগষ্ট তার স্ত্রী শামীমা আক্তার ও আট বছরের শিশু সন্তান আরহাম কে অপহরণের চেষ্টা চালায়। আহত ব্যক্তি আজাদ চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায় ঐদিন একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হঠাৎ আজাদ চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্ম রক্ষার্থে দৌড় দিতে গিয়ে তিনি পাশের একটি নালায় পড়ে আটকে যান। পরে সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে তাকে উপর্যুপুরি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এ সময় স্থানীয়দের চিৎকার চেঁচামেচিতে লোকজন জড়ো হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তার ভাই ফারুক চৌধুরী পথচারীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলের ২৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ বিষয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত আজাদ চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে আজাদ চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ চরমে পৌঁছালে তার ব্যবসায়ী অংশীদারেরা তাদের পরিবারের পিছনের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের লেলিয়ে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদাবাজদের ভয়ে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। এরপর থেকে আজাদ চৌধুরী পরিবার সহ দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছিলেন।
অন্যদিকে গত ১৩ ই আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা দিন মুরাদপুর এলাকায় অপহরণকারীদের সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হয়েছেন তার স্ত্রী শামীমা আক্তার ও শিশু আরহাম।
এ বিষয়ে আজাদ চৌধুরীর স্ত্রী শামীমা আক্তার বলেন, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তার স্বামীর সাথে তার ব্যবসায়িক পার্টনারদের সাথে ব্যবসায়িক হিসাব বিকাশ নিয়ে দ্বন্দ্ব হয় এবং ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করলে তার স্বামীর পার্টনাররা তাদের পরিবারের পিছনে কিছু চিহ্নিত দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়। দুষ্কৃতিকারীরা চাঁদা না দিলে তাদের ক্ষতি ও মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। ভয়ে তারা দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছিল।
৮-১০ দিন আগে ওই নারী তার মাকে দেখতে চট্টগ্রাম আসলে গত ১৩ই আগষ্ট হাসপাতালে থেকে তার অসুস্থ মাকে দেখে বাসার ফেরার পথে এই হামলার শিকার হয়। ১০-১২জনের সন্ত্রাসী দল তাদের পথ রোধ করে তাদেরকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে এবং অনেক টানা হিসড়া করে। গাড়িতে তুলতে না পেরে সন্ত্রাসীদের সাথে থাকা লাঠি ও রড দিয়ে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। সন্ত্রাসীদের আঘাতে তারা মা ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। শিশু আরহাম এর মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে এবং সে বেহুঁশ হয়ে যায় । তার মাথায় ৫ টি সেলাই দিতে হয়।এক পর্যায়ে তাদের আত্মচিৎকারের সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদেরকে পথচারীরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।